রোহিঙ্গা কারা? রোহিঙ্গাদের ইতিহাস।




অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে আরাকানে মুসলমানদের বসবাস শুরু হয়। আরব বংশোদ্ভূতএই জনগোষ্ঠী মায়্যু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের (বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নিকটচেয়ে মধ্য আরাকানেরনিকটবর্তী ম্রক ইউ এবং কাইয়্যুকতাও শহরতলীতেই বসবাস করতে পছন্দ করতো। এই অঞ্চলের বসবাসরতমুসলিম জনপদই পরবর্তীকালে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে।

রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি উলেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী।এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মায়ানমারের আকিয়াবরেথেডাংবুথিডাং মংডুকিয়ক্টাওমাম্ব্রাপাত্তরকিল্লা এলাকায় এদের বাস। বর্তমান ২০১২ সালেপ্রায়,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করে। মায়ানমার ছাড়াও  লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এবংপ্রায় ৫লাখ সৌদিআরবে বাস করে বলে ধারনা করা হয় যারা বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণেদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতেরোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।

রোহিঙ্গা কারা?

বর্তমান মিয়ানমারের রোহিং (আরাকানের পুরনো নামএলাকায়  জনগোষ্ঠীর বসবাস। ইতিহাস  ভূগোলবলছেরাখাইন প্রদেশের উত্তর অংশে বাঙালিপার্সিয়ানতুর্কিমোগলআরবীয়  পাঠানরা বঙ্গোপসাগরেরউপকূল বরাবর বসতি স্থাপন করেছে। তাদের কথ্য ভাষায় চট্টগ্রামের স্থানীয় উচ্চারণের প্রভাব রয়েছে। উর্দুহিন্দিআরবি শব্দও রয়েছে। রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস মগ’  রোহিঙ্গা মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মগেরমুল্লুক কথাটি বাংলাদেশে পরিচিত। দস্যুবৃত্তির কারণেই এমন নাম হয়েছে মগদের। এক সময় তাদের দৌরাত্ম্যঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মোগলরা তাদের তাড়া করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়।

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে একটি প্রচলিত গল্প রয়েছে এভাবেসপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটিজাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নিয়ে বলেনআল্লাহর রহমে বেঁচে গেছি। এই রহমথেকেই এসেছে রোহিঙ্গা।

তবে,ওখানকার রাজসভার বাংলা সাহিত্যের লেখকরা  রাজ্যকে রোসাং বা রোসাঙ্গ রাজ্য হিসাবে উল্লেখকরেছেন।

তবে ইতিহাস এটা জানায় যে১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীনরাজ্য ছিল। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া  রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়।

এক সময়ে ব্রিটিশদের দখলে আসে  ভূখণ্ড। তখন বড় ধরনের ভুল করে তারা এবং এটা ইচ্ছাকৃত কিনাসেপ্রশ্ন জ্বলন্ত। তারা মিয়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নামঅন্তর্ভুক্ত ছিল না।  ধরনের বহু ভূল করে গেছে ব্রিটিশ শাসকরা।

১৯৪৮ সালের  জানুয়ারি মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হয়। সেসময়ে পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল।  জনগোষ্ঠীর কয়েকজন পদস্থ সরকারি দায়িত্বও পালনকরেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে মিয়ানমারেরযাত্রাপথ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হয় দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। সামরিকজান্তা তাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়েনেওয়া হয়। ধর্মীয়ভাবেও অত্যাচার করা হতে থাকে। নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়েনিয়মিত ঘটনা। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হতে থাকে।

তাদেরশিক্ষা স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই। বিয়ে করার অনুমতি নেই। সন্তান হলে নিবন্ধন নেই। জাতিগত পরিচয়প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। সংখ্যা যাতে না বাড়েসে জন্য আরোপিত হয় একের পর এক বিধিনিষেধ।

মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডের অনেকের কাছেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী 'কালানামে পরিচিত। বাঙালিদেরও তারা'কালাবলে। ভারতীয়দেরও একই পরিচিতি।  পরিচয়ে প্রকাশ পায় সীমাহীন ঘৃণা।

সুত্র ঃ Wikipedia

No comments

Powered by Blogger.